রিপন হোসেন সাজু যশোর।। যশোর ও খুলনা জেলায় মানুষের মাঝে উদ্বেগ আর শঙ্কা বেড়েই চলেছে। দিন গেলেই এসব অঞ্চলে বেড়েই চলেছে করোনা রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুও। একটি দিন পার হচ্ছে আর মানুষ শঙ্কা নিয়ে বসে থাকছে পরবর্তী দিন কতজনের করোনা পজিটিভ শণাক্ত হয়।
আবার শণাক্ত হওয়াদের খোঁজ খবর নিতে রোজ সাংবাদিকদের কাছে ফোন করছে সর্বশ্রেণির মানুষ। সুস্থ্যতার খবর শুনলে কিছুটা আশা জাগছে তাদের। আবার পরের দিন আক্রানের সংখ্যার খবরে উবে যাচ্ছে সব আশা। বাসা বাধছে উদ্বেগ আর শঙ্কা। গত ২৪ ঘন্টায় নওয়াপাড়ায় ৪জনসহ যশোর ও খুলনা জেলায় মোট করোনা রোগী শণাক্ত হয়েছে ৫৫ জন।
যশোরের শিল্প বাণিজ্য ও বন্দর নগরী নওয়াপাড়ায় নতুন করে আরও ৪ জনের করোনা পজিটিভ শণাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে অভয়নগর উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ জন। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯জন। নতুন আক্রান্তরা হলেন নওয়াপাড়া বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আব্দুল গণি সরদারের ছেলে তানভীর ইসলাম, মেয়ে মুন, নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটের ক্রিড়া সম্পাদক সঞ্জয় রায় ও নাজিব আদনান নামের এক কিশোর।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শুক্রবার দুপুরে ঘোষিত করোনা পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। যবিপ্রবির পরীক্ষণ দলের সদস্য ও এনএফটি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শিরিন নিগার বলেন, ল্যাবে মোট ২৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪ জনের করোনা পজিটিভ এবং ২৬৫ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। এর মধ্যে যশোরের ৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১ জনের, নড়াইলের ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে একজনের, মাগুরার ৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে পাঁচজনের, সাতক্ষীরায় ১২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে সাতজনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাগেরহাটের ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় সবগুলোর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) আরটি-পিসিআর ল্যাবে আরও ৫৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগরীর ৪০ জন রয়েছেন। এছাড়া বাগেরহাটের ১০ জন, সাতক্ষীরার ১ জন, যশোরের ৪ জন, ঝিনাইদহে ১ জন, নড়াইলের ১ জন, গোপালগঞ্জের ১ জন রয়েছেন। শুক্রবার রাতে তাদের নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য পাওয়া গেছে। খুমেকের পিসিআর ল্যাবে একদিনে শনাক্ত হওয়া সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। এর আগে গত বুধবার ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।
যদিও ওইদিন খুলনা জেলা ও মহানগরীর ছিলেন ৩১ জন। পরের দিন বৃহস্পতিবার ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত হলেও জেলা ও মহানগরীতে শনাক্ত হয়েছিলেন ৩৫ জন। আর শুক্রবার একদিনে সর্বোচ্চ ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৪০ জনই খুলনার। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মোট শনাক্ত হওয়া রোগীদের সংখ্যায় এটিই সর্বোচ্চ। খুলনা মেডিকেল কলেজের (খুমেক) উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ দৈনিক নওয়াপাড়াকে জানান, শুক্রবার খুমেকের পিসিআর মেশিনে সর্বোচ্চ ৩৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিলো ১৫৪টি। এদের মধ্যে মোট ৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। যার ৪০ জনই খুলনার।
বাকিদের মধ্যে বাগেরহাট জেলার ১০ জন, সাতক্ষীরা জেলার ১ জন, যশোর জেলার ৪ জন, ঝিনাইদহ জেলার ১ জন, নড়াইল জেলার ১ জন, গোপালগঞ্জ জেলার ১ জন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, খুলনায় শনাক্তদের মধ্যে রয়েছেন- খালিশপুরের ৬২ বছরের এক বৃদ্ধ, খানজাহান আলী থানাধীন ফুলবাড়িগেট এলাকার ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ, নগরীর ৪৪ বছরের এক নারী, নগরীর বানরগাতি বাজারের ৫০ বছরের এক ব্যক্তি, খুলনা করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছরের এক ব্যক্তি, ২০ বছরের এক তরুণ, খালিশপুর নয়াবাটি এলাকার ৬১ বছরের এক বৃদ্ধ, দিঘলিয়া থানাধীন হাজিগ্রাম এলাকার এক নারী,
সোনাডাঙ্গা এলাকার ৪০ বছরের এক ব্যক্তি, সোনাডাঙ্গার ২৫ বছরের এক তরুণ, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৫ বছরের এক তরুণ, মুজগুন্নি মেইন রোডের ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধা, রূপসার আইচগাতি এলাকার এক ব্যক্তি, নগরীর টিবি ক্রস রোডের এক নারী, ছোট বয়রা গোলদারপাড়া এলাকার এক ব্যক্তি, মুজগুন্নি এলাকার ৬০ বছরের এক বৃদ্ধ, ছোট বয়রা এলাকার এক ব্যক্তি, সোনাডাঙ্গা এলাকার ২৩ বছরের এক তরুণ, মানিকতলা কুলিবাগান এলাকার ২৩ বছরের এক তরুণী, নগরীর মিস্ত্রিপাড়া এলাকার ৩৭ বছরের এক নারী, মুন্সিগঞ্জের ৪৩ বছরের এক ব্যক্তি,
সোনাডাঙ্গা এলাকার ২৩ বছরের এক তরুণ, নগরীর নিরালা এলাকার ৫৮ বছরের এক ব্যক্তি, সোনাডাঙ্গা এলাকার ১২ বছরের এক ছেলে, নগরীর মৌলভীপাড়া এলাকার ২৬ বছরের এক তরুণ, সোনাডাঙ্গা এলাকার ৪০ বছরের এক ব্যক্তি, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের ৪৬ বছরের এক ব্যক্তি, খুমেকের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসাধীন বাগেরহাটের মোংলা চৌরিডাঙ্গা এলাকার ১৬ বছরের এক তরুণী, খালিশপুর আলমনগর এলাকার ৩০ বছরের এক ব্যক্তি, খুমেকের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসাধীন বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি,
নগরীর রোশনিবাগ এলাকার ৩২ বছরের এক ব্যক্তি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪৫ বছরের এক ব্যক্তি, নগরীর পাওয়ার হাউজ কলোনীর ৫২ বছরের এক ব্যক্তি। জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ দিনেই খুলনা জেলা ও মহানগরীতে ১৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৪৪ জনে। এদের মধ্যে ৫১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আর মারা গেছেন ৪ জন।